Thursday, September 15, 2022
গুণের শেষ নেই সরিষার তেলের
সরিষা তেলের বহু গুণ রয়েছে। রান্নার তেল হিসেবে যেমন উপকারী, তেমনি রূপচর্চায়ও সরিষা তেল ব্যবহার করা যায় নানাভাবে। ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সরিষা তেলে থাকে অনেক প্রয়োজনীয় উপাদান। এর মধ্যে আছে প্রোটিন, ভিটামিন-ই, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, ওমেগা ফ্যাটি এসিড এবং পরিমাণমতো ভিটামিন-এ।
ত্বকে ব্রণ কিংবা সানট্যান হলে সরিষা তেল ব্যবহারে উপকার পাওয়া যাবে। অল্প পরিমাণে সরিষা তেল হাতে নিয়ে ভালো করে ম্যাসাজ করুন আপনার ট্যানপড়া ত্বকে। তারপর তুলো পানিতে ভিজিয়ে আস্তে আস্তে মুছে নিন। কিছুদিনের মধ্যেই চোখে পড়ার মতো উপকার দেখতে পাবেন। নিয়মিত ব্যবহারে কখনোই সানট্যান হবে না।
মুখে কালো দাগ বা ছোপ কিংবা ব্রণ কমে গেলেও দাগ থেকে যায়। এর সমাধান হলো দুই চামচ সরিষা তেল নিয়ে তার মধ্যে এক চামচ নারকেল তেল মেশান। এর মধ্যে এক চামচ লেবুর রস আর দুই চামচ টকদই দিয়ে একটা প্যাক বানিয়ে মুখে মাখুন। মিনিট দশেক পর ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে শুধু দাগ যাবে না, সঙ্গে মুখের জেল্লা বাড়বে।
সরিষা তেল আর আদা এই দুটোতেই এমন উপাদান থাকে, যা ত্বকের প্রদাহজনিত ক্রিয়ার গতি কমিয়ে দেয়। ফলে ব্যথা থেকে আরাম পাওয়া যায়। জয়েন্টের ব্যথার হাত থেকে নিরাময় পেতে সরিষা তেলে পরিমাণমতো কর্পূর মেশান। তেলটা গরম করে ঠাণ্ডা হতে দিন।
এবার সেই তেল দিয়ে মালিশ করুন। আরাম পাবেন। সরিষা তেল আমাদের শরীরের রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে এবং যাতে বাধাপ্রাপ্ত না হয়, যে দিকে নজর রাখে। ক্লান্তি দূর করে পেশি উজ্জীবিত এবং সবল রাখতে সরিষা তেল ভূমিকা রাখে।
একই সঙ্গে এই তেল শুধু আমাদের কোলেস্টেরল কমায় না, সঙ্গে লোহিত রক্তকণিকার গঠনে ভূমিকা রাখে। সরিষা তেল ঠান্ডা লাগার কষ্ট থেকে বাঁচায়। দুই হাতে তেল নিয়ে ভালো করে বুকে ম্যাসাজ করুন। আরাম পাবেন। সঙ্গে বুকের জমা কফ বেরোতে বা কমতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে বন্ধ নাক খোলার জন্য এক বাটি পানি নিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা সরিষা তেল ফেলুন। এবার পানি একটু গরম করে তার ভাপ নিন। দেখবেন বন্ধ নাক খুলে গেছে। ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সরিষা তেল বুকে বা পায়ের তলায় মালিশ খুবই কার্যকর।
নিয়মিত সরিষার তেল খেলে শরীরের যত উপকারিতা
গবেষণা পত্রগুলি অনুসারে শরীর এবং ত্বকের উপকারে নানাভাবে কাজে লাগে সরিষার তেল। তাই এই খেলে শরীরের কোনও ক্ষয় ঘটবে, এমনটা ভেবে নেওয়ার কোনও কারণ নেই বললেই চলে। তাহলে আর অপেক্ষা কেন, এখনই জেনে নিন প্রতিদিন সরষের তেল খেলে কী কী উপকার পাওয়া যায় সে সম্পর্কে।
প্রসঙ্গত, সরষের তেলের অন্দরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। যেমন…
১. মাইগ্রেন:
মাইগ্রেনের কষ্ট কমাতে ম্যাগনেসিয়াম দারুন কাজে আসে। আর যেমনটা ইতিমধ্যেই আপনারা জেনে গেছেন যে সরষের তেলে এই খনিজটি বিপুল পরিমাণে থাকে। তাই এমন তেলে রান্না করা খাবার খেলে মাইগ্রেনের কষ্ট একেবারে কমে যায়। প্রসঙ্গত, সরষের তেলে ভাজা মাছ খেলে শরীরে ওমাগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ফলে অনেক ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।
২. ক্যান্সার রোগের প্রকোপ কমায়:
সরষের তেলে উপস্থিত গ্লকোসুনোলেট এবং মিরোসিনেস নামে দুটি উপাদান শরীরে ক্যান্সার সেলের বৃদ্ধি আটকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই প্রতিদিন এই তেলটি খেলে এমন ধরনের মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যে অনেকাংশেই হ্রাস পাবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
৩. ডিপ ফ্রাই করার জন্য আদর্শ:
আমরা মানে বাঙালিরা যেহেতু বেশিরভাগ খাবারই উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করে থাকি তাই আমাদের জন্য সরষের তেলের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আজকাল অনেকে বাঙালিই স্বাস্থ্যের কথা ভেবে অলিভ ওয়েল ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু একথা জেনে রাখা ভাল যে রকমের খাবার আমরা খেয়ে থাকি তা বানাতে অলিভ অয়েল একেবারেই আদর্শ নয়। কারণ কম তাপমাত্রায় বানানো খাবারে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু যেসব খাবার বেশি আঁচে বানানো হয়, তাতে অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে শরীরের ভাল হওয়ার থেকে খারাপ হয় বেশি।
৪. ওমেগা ত্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধি:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশ করা রিপোর্ট অনুসারে সরষের তেেল ওমেগা ৩ এবং ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধি, যা জয়েন্ট পেন এবং ডিপ্রেশনের মতো রোগের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
৫. পেটে ব্যথা কমায়:
সরষের তেলে উপস্থিত অ্যান্টি-ইমফ্লেমেটারি উপাদান যে কোনও ধরনের প্রদাহ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশেষত মাথা যন্ত্রণা এবং তলপেটের অস্বস্তি কমাতে এই প্রকৃতিক উপাদানটি দারুন কাজে আসে।
৬. আর্থ্রাইটিস রোগের কষ্ট কমায়:
সেলেনিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম, এই দুটি খনিজ সরষের তেলে খুব বেশি পরিমাণ থাকে, যা আথ্রাইটিসের প্রদাহ কমানোর পাশপাশি এই রোগের প্রকোপ হ্রাসেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যারা এমন ধরনের হাড়ের রোগে ভুগছেন, তাদের প্রতিদিন সরষের তেলে রান্না করা খাবার খাওয়া উচিত।
৭. ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়:
সরষের তেলে উপস্থিত স্বাস্থ্যকর ফ্যাট স্মৃতিশক্তি বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে মনোযোগ বৃদ্ধি এবং সার্বিকভাবে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতার উন্নতিতেও সাহায্য করে।
৮. ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে:
সরষের তেলে রয়েছে কপার, আয়রণ, ম্যাগনেসিয়াম এবং সেলেনিয়াম। এই খনিজগুলি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
৯. ঠান্ডা লাগার হাত থেকে বাঁচায়:
আজও দাদী নানিরা নাতি-নাতিনিদের ছোট থাকতে সরষের তেল মাখিয়ে থাকেন। কেন এমনটা করে জানেন? কারণ ঠান্ডা লাগা এবং সর্দি-কাশির সমস্যা থেকে শুরু করে একাধিক রোগের হাত থেকে বাঁচাতে এই তেলটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।
১০. শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়:
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে সরষের তেলে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর মধ্যে দিয়ে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। সেই সঙ্গে শরীরের প্রতিটি কোণায় যাতে ঠিক মতো রক্ত পৌঁছে যেতে পারে সেদিকেও খেয়াল রাখে।
১১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:
সরষের তেলে উপস্থিত বেশ কিছু পুষ্টিকর উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর মধ্যে দিয়ে আমাদের একাধিক রোগের খপ্পর থেকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
১২. হার্টের পরম বন্ধু:
এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে ঠিকই। কিন্তু একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে নিয়মিত সরষের তেল খেলে হার্টের কোনও ক্ষতি হয় না। বরং হৃদপিণ্ডের কর্মক্ষমতা বাড়ে। সেই সঙ্গে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কাও হ্রাস পায়।
১৩. শ্বাস কষ্ট দূর হয়:
একাধিক গবেষণায় একথা প্রামাণিত হয়েছে যে শ্বাসকষ্ট সম্পর্কিত যে কোনো ধরনের সমস্যা কমাতে সরষের তেলের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই যারা এমন ধরনের রোগকষ্টে ভুগছেন, তাদের নিয়মিত সরষের তেল খাওয়া উচিত।
১৪. ডায়াটারি ফাইবার সমৃদ্ধ:
হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি নানাবিধ পেটের রোগ থেকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয় সরষের তেল। আসলে এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার, যা পেটের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে দারুন কাজে আসে। তাই পেটের রোগ তেকে যদি দূরে ছাকতে চান তো কখনও সরষের তেলের সঙ্গে বন্ধুত্ব ভাঙবেন না।
Saturday, September 10, 2022
সরিষার তেল : খাবেন না মাখবেন?
শুধু ঝাঁজেই নয়, মুখের রসনা বাড়াতে খাবারের স্বাদ রাঙাতে, ত্বকের যত্নে, এমনকি গাঁটের ব্যথা কমাতে সরিষার তেলের তুলনা নেই। সরষে ইলিশ থেকে শুরু করে মুড়িমাখা ও শরীরের সব জায়গায় মালিশ করা যায় সরিষার তেল। জেনে নিন কী কী উপকার মেলে এই তেল থেকে-
মগজ শানাতে
চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে, সরিষার তেল মস্তিষ্কের জন্য ভীষণ উপকারী। বিশেষ করে অবসাদ কাটাতে, স্মৃতিশক্তি আর মনঃসংযোগ বাড়াতে এই তেল যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আজকে থেকে রান্নাটা সরিষার তেলেই শুরু করুন।
খিদে বাড়াতে
খিদে বাড়াতে সরিষার তেলের কোনো তুলনা নেই। তাই ক্ষুধামন্দায় ভুগলে রান্নায় ব্যবহার করুন এ তেল।
হাড়ক্ষয় রোধে
সরিষার তেল মালিশে হাড়ক্ষয় রোধ হবে। ঈষদুষ্ণ তেল মাখলে কমবে আরথ্রাইটিস ও।
ক্যানসার প্রতিরোধে
বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা জানিয়েছে, ক্যানসার প্রতিরোধের অনেক গুণ সরিষার তেলে রয়েছে | এই তেলে থাকা লিনলেনিক অ্যাসিড ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডে পরিণত হলে তা স্টমাক আর কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে |
ব্যথা নাশে
আচমকা চোট পেয়ে হাত-পায়ের পেশি অবশ হয়ে গেলে সরিষার তেল হালকা গরম করে ব্যথার উপর মালিশ করুন| দ্রুত সাড়া ফিরে পাবেন।
হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে
সরিষার তেলে প্রচুর পরিমাণে মনো-স্যাচুরেটেড ও পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, ওমেগা থ্রি ও সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে| তাই রান্নায় রোজ সরিষার তেল খেলে হার্ট ডিজিজ হওয়ার প্রবণতা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়| এছাড়াও, সরিষার তেল শরীরের খারাপ কোলেস্টরেল-এর পরিমাণ কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল-এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়| এতে হার্ট ভালো থাকে| চট করে হার্টের অসুখে ভোগার সম্ভাবনাও কমে যায়|
সর্দি কাশি কমাতে
সর্দি কাশি কমাতে সরিষার তেলে রসুন থেঁতো করে ফুটিয়ে নিন| ঈষদুষ্ণ অবস্থায় বুকে-পিঠে মালিশ করুন| রোজ রাতে শোয়ার সময় এই টোটকা ব্যবহার করলে বুকে জমা কফ উঠে আসবে।
প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন হিসেবে
কী দরকার বাজারের ক্ষতিকারক সানস্ক্রিন ব্যবহার করার? হাতের কাছে সরিষার তেল থাকলে সানস্কিন হিসেবে নিশ্চিতে ব্যবহার করে ফেলুন।
ত্বকের যত্নে
সরিষার তেলে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল আর এন্টি ফাংগাল উপাদান এলার্জি, রাশ কমাতে সাহায্য করে| শীতে অনেকেই তাই সরষের তেল মেখে স্নান করতে পছন্দ করেন | এছাড়াও এই তেল মাখলে ত্বকের ময়েশ্চার বজায় থাকে| ত্বক ফাটে কম।
কেএইচ/এমকে
Friday, September 9, 2022
রান্নায় সরিষার তেলের উপকারিতা
যেসব তেল একই সঙ্গে রান্না ও চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে সরিষার তেল অন্যতম। এ তেলের সুগন্ধ রান্নার স্বাদ বাড়ায়। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শরীরের নানা উপকার করে। এক সময় রান্নার জন্য এ তেল প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এখন তা সীমিত রান্নায় ব্যবহৃত হয়। আয়ুর্বেদ চিকিৎসা বলা হয়, রান্নায় নিয়মিত সরিষার তেল ব্যবহার করলে দারুণ সব উপকার পাওয়া যায়। যেমন-
১. গোটা বিশ্বে হৃদরোগজনিত জটিলতায় সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, সরিষার তেলে থাকা মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। সেই সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
২. গবেষণায় দেখা গেছে, সরিষার তেলে থাকা ওমেগা থ্রি পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। এ ছাড়া এ তেলে তৈরি রান্না খেলে শতকরা ৫০ ভাগ টিউমারের আশঙ্কা কমে যায়।
৩. সরিষার তেলে থাকা অ্যালিল আইসোথিয়োকানেট উপাদান মূত্রাশয়ে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা ৩৪ ভাগ কমিয়ে দেয়।
৪. সরিষার তেলে থাকা অ্যান্টিবমাইক্রোবিয়াল উপাদান হজমশক্তি উন্নত করে। সেই সঙ্গে দাঁতের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।
৫. প্রদাহজনিত সমস্যা কমাতে সরিষার তেলের জুড়ি নেই।
৬. সরিষার তেলে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কম থাকায় এটি ওজন কমাতেও দারুণ ভূমিকা রাখে।
এই শীতে ত্বককে ভালো রাখতে সরিষার তেল
শীতকালে শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তাই ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন হয়। শুষ্ক ও প্রাণহীন ত্বককে নরম-উজ্জ্বল করতে সরিষার তেল ব্যবহার করতে পারেন। মুখে সরিষার তেল দিয় মালিশ করলে ত্বকের অনেক উপকার হয়। সরিষার তেলে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে, যা ত্বকের অনেক সমস্যা দূর করে। সরিষার তেল ব্যবহার করে ত্বকের দাগও কমে। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক, ত্বকের যত্নে সরিষার তেলের উপকারিতা।
ত্বকের দাগ দূর করে সরিষা তেল শীতকালে ত্বকের যত্নে সরিষার তেল খুবই কার্যকর বলে মনে করা হয়। কালো দাগ দূর করতে এক চামচ বেসন নিয়ে তাতে দুই চামচ দই মিশিয়ে নিন। এরপর এই মিশ্রণে আধা চা চামচ সরিষার তেল দিন। ঘরে তৈরি এই ফেসপ্যাকটি মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। সপ্তাহে একবার ঘরে তৈরি এই ফেস মাস্কটি ব্যবহার করুন। এই ফেসপ্যাক ব্যবহারে মুখের কালো দাগ দূর হবে, পাশাপাশি ত্বক কোমল ও উজ্জ্বল হবে।
ফাইন লাইনস-এর জন্য সরিষার তেল শীতে ত্বকের যত্ন এবং ফাইন লাইনস কমাতে সরিষার তেল খুবই কার্যকর বলে মনে করা হয়। বলিরেখা কমাতে হালকা গরম তেল নিয়ে মুখে ম্যাসাজ করুন। ম্যাসাজ করার পরে, একটি সুতির কাপড় ভিজিয়ে অতিরিক্ত তেল মুছে ফেলুন। ফল পাবেন হাতেনাতে!
সরিষার তেল শীতকালে রোদে বসার কারণে ত্বকে ট্যান পড়ে যায়। ত্বকের সুরক্ষায় রাসায়নিক সানস্ক্রিনের পরিবর্তে সরিষার তেল ব্যবহার করতে পারেন। সরিষার তেলে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-এজিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ত্বকের ট্যান দূর করতে খুবই সহায়ক। ত্বকের ট্যান দূর করতে এক চামচ সরিষার তেল নিন। এই তেলে লেবুর রস মিশিয়ে নিন। লেবুর রসে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না, তার পরিবর্তে দই ব্যবহার করতে পারেন। এটি দিয়ে মুখে ম্যাসাজ করুন, ১০ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেলুন
নিয়মিত ত্বকে মাখুন সরিষার তেল
চিকিৎসকদের মতে, সরিষার তেলে আস্থা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। নিয়মিত সরিষার তেল মাখলে অনেক জটিল সমস্যার মোকাবিলা করা যায়।
এক সময়ে শিশুদের তেল মাখিয়ে রোদে রাখা হতো, এখন অনেকেই বেছে নেন কেতাদার বডি অয়েল। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, সরিষার তেলে আস্থা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। নিয়মিত সরিষার তেল মাখলে অনেক জটিল সমস্যার মোকাবিলা করা যায়।
সরিষার তেলে ব্যবহারের কিছু নিয়ম দেয়া হলো:
১. জ্বর-ঠাণ্ডা-কাশিতে আরাম পেতে হালকা গরম সরিষার তেলে কালোজিরে মিশিয়ে বুকে-পিঠে মাখুন, উপকার পাবেন।
২. অল্প সরিষার তেল হাতের তালুতে ঘষে মুখে লাগিয়ে নিন, সূর্যের ক্ষতিকারক আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করবে।
৩. সরিষার তেল অ্যান্টি ব্যাকটিরিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদানে ভরপুর, অ্যালার্জি ও র্যাশ প্রতিরোধ করে। ত্বকের শুষ্কতা ও চুলকানি রুখতেও সর্ষের তেল কার্যকরী
৫. ত্বকে ডার্ক স্পট, ট্যান বা পিগমেন্টেশন ঠেকাতে বেসন, দই, লেবুর রস আর সর্ষের তেল মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন, তার পর ঠাণ্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
৬. সরিষার তেল ও নারকেল তেল মিশিয়ে ১০ মিনিট ত্বকে মাসাজ করুন, ত্বক নরম, উজ্জ্বল থাকবে।
৭. সর্ষের তেলে রয়েছে ভিটামিন এ, ই এবং বি কমপ্লেক্স। ফলে এটি রিংকল কমাতে সাহায্য করে।
জেনে নেই সরিষার তেলের যত গুন
ডিএমপি নিউজঃ সরিষার তেল ভেষজ প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। এটি ব্যবহারে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং সহজেই হজমকারক। শ্বাসনালি এবং মূত্রনালি ও ব্রঙ্কাইটিস ইনফেকশন সারাতেও সরিষার তেল বিশেষ ভূমিকা রাখে। এ তেলে রোগের জীবাণু ধ্বংসের ক্ষমতা রয়েছে।
এছাড়াও সরিষার তেলে রয়েছে এমন অনেক গুণ যা হয়ত আমাদের জানা নেই। আসুন জেনে নেই নানা গুণের সরিষার তেলের উপকারিতা-
হাড়ের ব্যথাঃ শরীরে হাড়ের ব্যথায় অনেকেই কষ্ট পান। এর থেকে মুক্তি পেতে ব্যবহার করতে পারেন সরিষার তেল। সরিষার তেল আর আদা এই দুটোতে এমন উপাদান থাকে যা প্রদাহজনিত উৎসেচকের ক্রিয়ার গতি কমিয়ে দেয়। জয়েন্টের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে সরিষার তেলে পরিমাণ মতো কর্পূর মেশান। তেলটা গরম করে ঠান্ডা হতে দিন। এবার সেই তেল মালিশ করুন।
ত্বকের যত্নেঃ সরিষার তেলে এমন অনেক প্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে, যা আমাদের ত্বকের জন্যে ভীষণ উপকারী। এতে আছে প্রোটিন, ভিটামিন ই, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড, এবং পরিমাণমতো ভিটামিন এ। ব্রণ হোক বা ট্যান পড়া- সব ক্ষেত্রেই কাজে লাগে এই তেল। এছাড়াও মুখের কালো দাগ ও ব্রণের জন্যে দু চামচ সর্ষের তেল নিয়ে তার মধ্যে এক চামচ নারকেল তেল মেশান। এর মধ্যে এক চামচ লেবুর রস আর দু চামচ টক দই দিয়ে একটা প্যাক বানিয়ে মুখে মাখুন। মিনিট দশেক পর ধুয়ে ফেলুন।
হার্ট ভালো রাখেঃ হার্টের সমস্যার কারণে খাবার থেকে তেল বাদ দিতে বলেন অনেক চিকিৎসক। অনেকে রান্নায় সয়াবিন বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করেন। তবে পরিমিত খেতে পারলে সরিষার তেল হার্টের পক্ষে ভালো। এতে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। ফলে শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে তোলে।
ঠান্ডার সমস্যা থেকে বাঁচায়ঃ ঋতু পরিবর্তনের সময় ঠান্ডার সমস্যা দেখা দেয় অনেকেরই। ঘরোয়াভাবে চিকিৎসা নিলে ঠান্ডার সমস্যায় কাজে লাগে সরিষার তেল। দুই হাতে তেল নিয়ে বুকে ম্যাসাজ করুন। এটি বুকে জমে থাকা কফ বের করতে সাহায্য করবে। নাক বন্ধ হলে একবাটি পানিতে কয়েক ফোঁটা সরিষার তেল দিন। এবার সেই পানি গরম করে তার ভাপ নিন।
রক্ত ভালো রাখেঃ শরীরের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে সরিষার তেল। শরীরের ক্লান্তপেশীগুলোকে উজ্জীবিত এবং সবল রাখে। সরিষার তেল শুধু কোলেস্টেরল কমায় না, সাথে লোহিত রক্ত কণিকার গঠনে ভূমিকা রাখে।
ত্বক ফর্সা হবে সরিষার তেল ব্যবহারে
স্বাস্থ্য, ত্বক ও চুল সব ক্ষেত্রেই সরিষার তেল অসামান্য কাজ করে। নিয়মিত রান্নায় এই তেলের ব্যবহার অত্যন্ত স্বাস্থ্যসম্মত। ঠিক তেমনি রুপচর্চায় এর কার্যকারিতাও বহুল। ত্বক ও চুলের যত্নে এই তেল প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এবার তবে জেনে নিন সরিষার তেল ত্বকের যত্নে কতটা উপকারী-
১. ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে প্রতি রাতে সরিষা ও নারকেল তেল মিশিয়ে দশ মিনিট ত্বকে ম্যাসাজ করুন। তারপর ভালো করে মুখ ধুয়ে ঘুমাতে গেলে ত্বক হবে নরম ও উজ্জ্বল।
২. ত্বকের রোদে পোড়া দাগ ঠেকাতেও সরিষার তেলের জুড়ি মেলা ভার। এজন্য বেসন, দই ও লেবুর রসের সঙ্গে সরিষার তেল মিশিয়ে মুখে ও ঘাড়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ব্যবহার করুন। এরপর ঠাণ্ডা পানিতে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।
৩. এই তেলে রয়েছে ভিটামিন এ, ই এবং বি কমপ্লেক্স। নিয়মিত সরিষার তেল ব্যবহারে ত্বকে বার্ধ্যক্যের ছাপ পড়ে না।
৪. সানস্ক্রিন না থাকলেও সমস্যা নেই। এর পরিবর্তে সামান্য সরিষার তেল ব্যবহার করুন। সূর্যের ক্ষতিকারক আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে বাঁচাবে।
৫. এছাড়াও সরিষার তেলে রয়েছে অ্যান্টি ব্যাকটিরিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদানে ভরপুর। তাই অ্যালার্জি, র্যাশ, চুলকানি ও শুষ্ক ত্বকের জন্য এটি খুবই ভালো একটি উপাদান।
শীতে ত্বকের সব সমস্যার সমাধান হবে নিমেষেই, নিয়মিত ব্যবহার করুন সরিষার তেল!
শীতকালে শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তাই ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন হয়। শুষ্ক ও প্রাণহীন ত্বককে নরম-উজ্জ্বল করতে সরিষার তেল ব্যবহার করতে পারেন।
মুখে সরিষার তেল দিয় মালিশ করলে ত্বকের অনেক উপকার হয়। সরিষার তেলে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে, যা ত্বকের অনেক সমস্যা দূর করে। সরিষার তেল ব্যবহার করে ত্বকের দাগও কমে। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক, ত্বকের যত্নে সরিষার তেলের উপকারিতা।
ত্বকের দাগ দূর করে সরিষা তেল
শীতকালে ত্বকের যত্নে সরিষার তেল খুবই কার্যকর বলে মনে করা হয়। কালো দাগ দূর করতে এক চামচ বেসন নিয়ে তাতে দুই চামচ দই মিশিয়ে নিন। এরপর এই মিশ্রণে আধা চা চামচ সরিষার তেল দিন। ঘরে তৈরি এই ফেসপ্যাকটি মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর হালকা গরম জল দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। সপ্তাহে একবার ঘরে তৈরি এই ফেস মাস্কটি ব্যবহার করুন। এই ফেসপ্যাক ব্যবহারে মুখের কালো দাগ দূর হবে, পাশাপাশি ত্বক কোমল ও উজ্জ্বল হবে।
ফাইন লাইনস-এর জন্য সরিষার তেল
শীতে ত্বকের যত্ন এবং ফাইন লাইনস কমাতে সরিষার তেল খুবই কার্যকর বলে মনে করা হয়। বলিরেখা কমাতে হালকা গরম তেল নিয়ে মুখে ম্যাসাজ করুন। ম্যাসাজ করার পরে, একটি সুতির কাপড় ভিজিয়ে অতিরিক্ত তেল মুছে ফেলুন। ফল পাবেন হাতেনাতে!
ত্বকের ট্যান দূর করতে সরিষার তেল
শীতকালে রোদে বসার কারণে ত্বকে ট্যান পড়ে যায়। ত্বকের সুরক্ষায় রাসায়নিক সানস্ক্রিনের পরিবর্তে সরিষার তেল ব্যবহার করতে পারেন। সরিষার তেলে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-এজিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ত্বকের ট্যান দূর করতে খুবই সহায়ক।
ত্বকের ট্যান দূর করতে এক চামচ সরিষার তেল নিন। এই তেলে লেবুর রস মিশিয়ে নিন। লেবুর রসে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না, তার পরিবর্তে দই ব্যবহার করতে পারেন। এটি দিয়ে মুখে ম্যাসাজ করুন, ১০ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেলুন।
সরিষার তেল মাখলে যে উপকারগুলো অবশ্যই পাবেন
এক সময়ে বাংলার ঘরে ঘরে শিশুদের সরিষার তেল মাখিয়ে রোদে রাখার রেওয়াজ ছিল। ধারণা ছিল, তেল ও সূর্যের ভিটামিন ডি শিশুকে ঠাণ্ডা থেকে দূরে রাখবে এবং শরীরের হাড়গোড় মজবুত হবে। শুধু তা-ই নয়, বড়রাও নিয়মিত শরীরে মাখতেন সরিষার তেল।
ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যান্ডেড তেল কিংবা বাজারচলতি লোশনের চেয়ে সরিষার তেলে আস্থা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে সেই তেলকে অবশ্যই খাঁটি হতে হবে।
শুধু ত্বকই নয় হৃৎপিণ্ড, পেশি, গাঁট— হাজারো সমস্যার মোকাবিলায় সরিষার তেলের বিকল্প নেই। তাই কেবল মুড়িমাখা কিংবা আচাড়ে সরিষার তেল নয়, তা কাজে লাগে নানা রোগ নিরাময়েও। কেমন সে সব? তা জেনে নিন...
• ত্বকে ঔজ্জ্বল্য আনতে প্রতিরাতে সরিষার তেলের সঙ্গে সমপরিমাণ নারিকেল তেল মিশিয়ে মিনিট দশেক ধরে মাসাজ করুন। তারপর ভাল করে মুখ ধুয়ে ঘুমোতে গেলে ত্বক যেমন নরম থাকবে, তেমনই উজ্জ্বল হবে।
• রোদে ত্বকে ট্যান পড়া স্বাভাবিক। ডার্ক স্পট, ট্যান বা পিগমেন্টেশন ঠেকাতে বেসন, দই, লেবুর রসের সঙ্গে সরিষার তেল মিশিয়ে মুখে-ঘাড়ে ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর ঠাণ্ডা পানি ধুয়ে ফেললে উপকার পাবেন।
• সরিষার তেলে রয়েছে ভিটামিন এ, ই এবং বি কমপ্লেক্স। ফলে এটি রিংকল কমাতে সাহায্য করে।
• সানস্ক্রিনে খুব ঘাম হলে বা কোনভাবে সানস্ক্রিন বাড়িতে না থাকলে অল্প সরিষার তেল হাতের তালুতে ঘষে মুখে লাগিয়ে নিলে তা সূর্যের ক্ষতিকারক আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করবে। তবে বেশি তেলে ধুলোবালি ধরে রাখে ত্বক। তাই খেয়াল রাখবেন পরিমাণের প্রতি।
• সরিষার তেল অ্যান্টি ব্যাকটিরিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদানে ভরপুর। তাই অ্যালার্জি ও র্যাশের হানা প্রতিরোধে সাহায্য করে।
• ত্বকের শুষ্কতা ও চুলকানি রুখতেও সরিষার তেল বিশেষ কাজে আসে।
• সরিষার তেলে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফ্যাটি অ্যাসিড ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে, যা চুলের বৃদ্ধিতে অনেক সাহায্য করে। এ ছাড়া প্রতি রাতে চুলে সরিষার তেল মালিশ করে লাগালে চুল কালো হবে এবং চুল পাকা রোধ হবে।
• শরীরে মালিশ করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন এবং ঘর্মগ্রন্থি উদ্দীপিত হয় এবং শরীরের তাপমাত্রা কমে।
Tuesday, August 16, 2022
সয়াবিন তেল নাকি সরিষার তেল কোনটি ভালো
আমাদের দেশে রান্নার কাজে এক সময় সরিষার তেল সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হতো। এখন সেই স্থান দখল করে নিয়েছে সয়াবিন তেল। এর বাইরে সূর্যমুখী তেল বা অলিভ অয়েলের ব্যবহার রয়েছে। কিন্তু এগুলো উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে- কোন তেল ব্যবহারে উপকার বেশি বা পুষ্টি বেশি পাওয়া যায়? এ বিষয়ে জানতে ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন বিভাগের চীফ কনসালটেন্ট, পুষ্টিবিদ সামিরা খালেক সুকৃতির সঙ্গে কথা হয় রাইজিংবিডির।
ডা. সামিরা বলেন, ‘আমাদের দেশে যত ধরনের ভোজ্যতেল ব্যবহার হয় তার মধ্যে সবচেয়ে ভালো সরিষার তেল। সয়াবিন তেলে অনেক সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা পাম অয়েলসহ বিভিন্ন কিছু মেশায়। অধিক মুনাফার জন্য তারা এ কাজ করে। কিন্তু সরিষার তেলে সে সুযোগ নেই। কারণ সরিষার তেলে এমন কিছু মেশালে ভালোভাবে মিক্সড হয় না। এ কারণে সরিষার তেল তুলনামূলক ভালো। সানফ্লাওয়ার অয়েলের সঙ্গেও অন্য তেল মেশানো যায়।’
ক্যাস্টর অয়েল নিয়মিত খাওয়ার জন্য উপকারী নয় উল্লেখ করে এই পুষ্টিবিদ বলেন, রান্নায় নিয়মিত ব্যবহারের জন্য সানফ্লাওয়ার অয়েল ভালো, যদি সেটি খাঁটি হয়।
ক্যালরির বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. সামিরা বলেন, ‘ক্যালরির দিক থেকে মোটামুটি সব তেল প্রায় সমান। তেল যেহেতু ফ্যাটের অধীন, এক গ্রাম ফ্যাট থেকে ৯ ক্যালরি পাওয়া যায়। ফলে তেলের ক্ষেত্রে ক্যালরির ডিসটেন্স কিন্তু বেশি হচ্ছে না। আমাদের দেহে দুই ধরনের ফ্যাট রয়েছে- স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট। এখন সয়াবিন তেলের চেয়ে সরিষার তেল তুলনামূলক ভালো, অলিভ অয়েল আরো ভালো। কিন্তু তেল ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। অনেকে মনে করেন, অলিভ অয়েল দিয়ে রান্না করলে বেশি পুষ্টি হবে। কিন্তু যখন আপনি অলিভ অয়েল বেশি তাপে রান্না করবেন গুণগত মান নষ্ট হবে। অলিভ অয়েল দিয়ে আপনি হালকা ডিম ভাজতে পারেন কিন্তু খুব বেশি তাপে রান্না করলে কাঙ্ক্ষিত পুষ্টিগুণ পাবেন না।’
আমাদের দেশে তেল-মসলা বেশি খাওয়া হয়। এ জন্য সয়াবিন তেল ব্যবহার করা হয়। চাইলে সরিষাবাটা তেল দিয়েও রান্না করা যায়। সরিষার তেল সয়াবিন তেলের চেয়ে বরং পরিমাণে কম লাগে। এতে শরীরে ক্যালরি বাড়ার আশঙ্কাও কমে যায়। জানান এই পুষ্টিবিদ।
সরিষার তেল মাখলে যে উপকারগুলো অবশ্যই পাবেন
এক সময়ে বাংলার ঘরে ঘরে শিশুদের সরিষার তেল মাখিয়ে রোদে রাখার রেওয়াজ ছিল। ধারণা ছিল, তেল ও সূর্যের ভিটামিন ডি শিশুকে ঠাণ্ডা থেকে দূরে রাখবে এবং শরীরের হাড়গোড় মজবুত হবে। শুধু তা-ই নয়, বড়রাও নিয়মিত শরীরে মাখতেন সরিষার তেল।
ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যান্ডেড তেল কিংবা বাজারচলতি লোশনের চেয়ে সরিষার তেলে আস্থা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে সেই তেলকে অবশ্যই খাঁটি হতে হবে।
শুধু ত্বকই নয় হৃৎপিণ্ড, পেশি, গাঁট— হাজারো সমস্যার মোকাবিলায় সরিষার তেলের বিকল্প নেই। তাই কেবল মুড়িমাখা কিংবা আচাড়ে সরিষার তেল নয়, তা কাজে লাগে নানা রোগ নিরাময়েও। কেমন সে সব? তা জেনে নিন...
• ত্বকে ঔজ্জ্বল্য আনতে প্রতিরাতে সরিষার তেলের সঙ্গে সমপরিমাণ নারিকেল তেল মিশিয়ে মিনিট দশেক ধরে মাসাজ করুন। তারপর ভাল করে মুখ ধুয়ে ঘুমোতে গেলে ত্বক যেমন নরম থাকবে, তেমনই উজ্জ্বল হবে।
• রোদে ত্বকে ট্যান পড়া স্বাভাবিক। ডার্ক স্পট, ট্যান বা পিগমেন্টেশন ঠেকাতে বেসন, দই, লেবুর রসের সঙ্গে সরিষার তেল মিশিয়ে মুখে-ঘাড়ে ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর ঠাণ্ডা পানি ধুয়ে ফেললে উপকার পাবেন।
• সরিষার তেলে রয়েছে ভিটামিন এ, ই এবং বি কমপ্লেক্স। ফলে এটি রিংকল কমাতে সাহায্য করে।
• সানস্ক্রিনে খুব ঘাম হলে বা কোনভাবে সানস্ক্রিন বাড়িতে না থাকলে অল্প সরিষার তেল হাতের তালুতে ঘষে মুখে লাগিয়ে নিলে তা সূর্যের ক্ষতিকারক আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করবে। তবে বেশি তেলে ধুলোবালি ধরে রাখে ত্বক। তাই খেয়াল রাখবেন পরিমাণের প্রতি।
• সরিষার তেল অ্যান্টি ব্যাকটিরিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদানে ভরপুর। তাই অ্যালার্জি ও র্যাশের হানা প্রতিরোধে সাহায্য করে।
• ত্বকের শুষ্কতা ও চুলকানি রুখতেও সরিষার তেল বিশেষ কাজে আসে।
• সরিষার তেলে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফ্যাটি অ্যাসিড ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে, যা চুলের বৃদ্ধিতে অনেক সাহায্য করে। এ ছাড়া প্রতি রাতে চুলে সরিষার তেল মালিশ করে লাগালে চুল কালো হবে এবং চুল পাকা রোধ হবে।
• শরীরে মালিশ করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন এবং ঘর্মগ্রন্থি উদ্দীপিত হয় এবং শরীরের তাপমাত্রা কমে।
এএইচ/
কেন খাঁটি সরিষার তেল ব্যবহার করবেন?
বাঙালির রান্নায় সরিষার তেল না থাকলে যেন জমে না। মাছ ভাজা, নানা রকম ভর্তা, মুড়ি মাখা, আচারের মতো মুখরোচক খাবারে সরিষার তেল যোগ করে আলাদা স্বাদ। ভাপ দিয়ে রাঁধতে হয়—এমন পদেও এই তেলের জুড়ি নেই। সরিষার তেল হার্টকে ভালো রাখে। ক্ষতিকর কোলেস্টরল কমায়। নানা রকম গুণ আছে সরিষার তেলের।
গতকাল শনিবার ভারতের অন্যতম প্রধান দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে সরিষার তেলের গুণাগুণের এমন বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
ভারতের নামী পুষ্টিবিদ সন্ধ্যা গুগনানি বলেন, সরিষার তেল নিয়ে একটা কথা চালু আছে যে এতে ইউরিক অ্যাসিড থাকায় এটা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপে গ্রহণ নিষিদ্ধ। ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা করে এর ক্ষতিকর প্রভাব দেখা গেছে। কিন্তু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, মানুষের ওপর এর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব নেই। বরং অন্য সব তেলের তুলনায় অন্যতম স্বাস্থ্যকর তেল হিসেবে বিবেচনা করা হয় একে। অন্যান্য তেলের তুলনায় এতে ওমেগা ৩ ও ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি। জেনে নিন খাঁটি সরিষার তেলের এক ডজন গুণাগুণ।
১. এর আছে ঝাঁজালো অনন্য স্বাদ। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওডিশা, আসাম ও নেপালে ঐতিহ্যগত রান্নার তেল হিসেবে সরিষার তেলের ব্যবহার রয়েছে।
২. এক চা-চামচ সরিষার তেলে আছে ১২৬ ক্যালরি।
৩. সরিষার তেল অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদানসমৃদ্ধ। ত্বকের ওপর এই তেল দিয়ে ম্যাসাজ করলে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন দূর হয়। এরা ফাঙ্গাসের বৃদ্ধি রোধ করে।
৪. পোকামাকড় সরিষার তেল সহ্য করতে পারে না। এই তেল ব্যবহার করে পোকামাকড় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
৫. সরিষার তেলে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড (অলিক ও লিনোলিক অ্যাসিড) চুল পুনরুজ্জীবিত করে তোলে। চুলের গোড়া মজবুত করে এবং মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। নিয়মিত
সরিষার তেল ব্যবহারে চুল পড়া কমে।
৬. সরিষার তেল শরীর উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরের ঘাম বের হওয়ার গ্রন্থিগুলো পরিষ্কার ও সচল রাখে। ফলে শরীরের বর্জ্য পদার্থগুলো বের হয়ে যায়।
৭. এটি উষ্ণ তেল হিসেবে শীতের সময় শরীরে ম্যাসাজ করা যায়।
৮. এর উষ্ণতার গুণের কারণে আয়ুর্বেদশাস্ত্রে একে কফ ও কাশি প্রতিরোধক হিসেবে বলা হয়েছে।
৯. বাতের ব্যথা দূর করতে সরিষার তেলের ব্যবহার দেখা যায়।
১০. দাঁতের মাড়ির বিভিন্ন রোগ দূর করতে লবণ ও সরিষার তেল ব্যবহার করা হয়।
১১. ভারতের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস ও স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন ভোজ্যতেলের মধ্যে চর্বির তুলনা করে দেখেছেন, সরিষার তেলের ব্যবহারে হৃদ্রোগের ঝুঁকি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে। গবেষকেরা অলিভ অয়েল, ক্যানোলা ও সূর্যমুখী তেলের মধ্যে তুলনা করেছিলেন। প্রিভেনটিভ কার্ডিওলজি সাময়িকীতে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয় গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধ।
১২. সরিষার তেল আর হলুদ ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে ত্বকের খসখসে ভাব দূর হয় এবং শুষ্ক চামড়া ঝরে পড়ে। তথ্যসূত্র: টিএনএন।
Monday, June 27, 2022
Pachok Mustard Oil- 80 ml
F.M Manufacturing Ltd is a famous local brand who sells all Types of grocery Food in lower cost. Customers can find their desired unique products
Pachok Mustard Oil -250 ml
F.M Manufacturing Ltd is a famous local brand who sells all Types of grocery Food in lower cost. Customers can find their desired unique products for a reasonable price within time.
Pachok Mustard Oil - 500ml
F.M Manufacturing Ltd is a famous local brand who sells all Types of grocery Food in lower cost. Customers can find their desired unique products for a reasonable price within time.
Pachok Mustard Oil-5 Litre
Pachok Pure Mustard Oil is manufactured from the finest grade of indigenous mustard seeds and purified in fully automated plant.
Pachok Mustard Oil - 1L
Pachok Pure Mustard Oil is manufactured from the finest grade of indigenous mustard seeds and purified in fully automated plant.
Pachok Mustard Oil-2Litre
Pachok Pure Mustard Oil is manufactured from the finest grade of indigenous mustard seeds and purified in fully automated plant.